ওরা বলতো সাগুফতা।
শুনে আমার পিত্তি জ্বলে যেতো।
শাহ গুফতা।
কতো সুন্দর একটা নাম।
অথচ, ওরা বিকৃত করে ডাকতো।
সুমন ভাইটাও,
ও নাকি আপার প্রেমিক!
প্রেমিক হয়ে প্রেমিকার নাম
ঠিকভাবে নিতে পারে না।
তখন ইন্টারনেট ছিলো না,
ছিলো না এখনকার মতো ম্যাসেঞ্জার।
সুমন ভাই আর শাহ গুফতা আপার
ম্যাসেঞ্জার ছিলাম আমি।
শাহ গুফতা
নামের মতো গুটি গুটি হাতের লেখা ছিলো,
নামের মতোই লেখায় আভিজাত্য ছিলো।
সুমন ভাইকে দেবার আগে
আমি কয়েকবার করে পড়ে নিতাম।
কল্পনায় সুমন ভাইয়ের বদলে
আমিই বুনে নিতাম গোপন অভিসার।
শাহ গুফতা
নামের মতোই আভিজাত্য ছিলো
আপার শরীর জুড়ে।
ছিলো অদ্ভুত এক সৌরভ।
একদিন
কি জানি কী মনে করে
আমাকে কাছে নিয়েছিলেন
পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে
ঠিক মাথার উপরে
আলতো করে চুমুও খেয়েছিলেন।
এখনও সেখানে হাত বুলাই,
খুঁজে ফিরি সেই ঠোট।
কাছাকাছি হতে গিয়ে আমার
নাক মুখ চোখ স্পর্শ করেছিলো
শাহ গুফতার নরম বুক।
এতোটুকুনই।
অদ্ভুত! অদ্ভুত! অদ্ভুত স্পর্শ।
এক জীবন পেরিয়ে গেলো তবু,
সেই স্পর্শ, সেই ঘ্রাণ
আর ফিরে আসেনি, ফিরে আসেনি
সেই ডুবে যাবার আকাঙ্ক্ষা।
শাহ গুফতা।
সে কি জানে!
এখনও খুঁজি সেই স্পর্শ,
সেই ঘ্রাণ।
যে প্রথম বুনে দিয়েছিলো,
এ জন্মে নারী প্রাণ, নারী ঘ্রাণ।
ট্যাগ poem-12 (বাংলা)
-

বদমাইশের জবানবন্দি