অতঃপর,
একদিন আসিবে এমন সময়
খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘর, তার অনতি বৃহৎ বারান্দায়
সোদা মাটির ‘পরে মাাদুর পেতে মুখোমুখি
বসবো দু’জনে, তবু স্পর্শ করে নয়।
আমরা জানিবো আমাদের হৃদয়
যোজন যোজন দূরত্ব গুছিয়েছিলো,
মিশেছিলো নববর্ষার জলে পলির মতন।
আমরা জানিবো আমাদের প্রেম,
অশরীরি জোসনার মতো আচ্ছন্ন রেখেছিলো।
অথবা আমাদের ভালোবাসা ছিলো
সোনামুখী জলের দেশে
ঝিনুকের বুকের ভেতর কঙ্কাবতীর রতন।
চারিদিকে জল জঙ্গল, ভেসে যাবে পুর্নিমায়,
শ্রাবণ শেষের শরৎ আকাশ, অশরীরী মেঘ
বয়ে যাবে, যেমন করে বয়ে বেরিয়েছে
যুগ থেকে যুগ; আমাদের ধুসর রঙা ভালোবাসা।
আমরা
আমাদের স্বপ্নের মতোন
আবছা আলোয় চোখ তুলে তাকাবো পরস্পর
জানিবো, এই চোখ, এই মুখ আমাদের কতো চেনা!
অতীতের গ্লানি, বিরহ বিচ্ছেদ সবকিছু গুড়িয়ে দিয়ে
আমাদের স্বপনের মতোন
সময়ের হাতে ছেড়ে দিয়ে ভালোবাসা,
রয়ে যাবো তবু দুজনেই নীরব।
আমাদের মুখ কহিবে না কিছু,
নৈশব্দের ভেতর ভেসে যাবে
বলা না বলা সকল কথোপথন।
একবার কেটে যাবে ঘোর,
কেটে যাবে জোসনার রেশ
নীরবতা ভেঙে দু’জন দু’জনকেই বলবো,
“ঠিক ঠিক কেটে গেলো রাত
আমাদের স্বপ্নের মতোন।”
স্বপ্নের মতন
