বলিলাম,
দিদিগণ, ভগিনিগণ,
আসুন পথে নামি।
অধিকার বুঝিয়া লই।
তাহারা বলিলেন,
আমরা কি বেশ্যা?
বারবনিতা রমণী?
আমরা তো সম্ভ্রান্ত,
সম্মানীয়া গৃহিণী।
বলিলাম,
আওয়াজ তুলুন
কণ্ঠ হোক সুতীক্ষ্ণ।
তাহারা আওয়াজ তুলিলেন,
সকাল বিকাল রেওয়াজ করিলেন।
কর্তা বেলকনিতে ইজি চেয়ারে দোল খাইতে খাইতে
মন দিয়া শুনিলেন।
একটু তন্দ্রাতেও লুটিলেন।
এরপর হাঁক ছাড়িলেন।
কই গো, অনেক তো হলো।
এবার বেশি করে দুধ দিয়ে
একটা কড়া চা দাও দেখি।
দিদি সবকিছু ছেড়ে
পরি কি মরি ছুটিলেন।
বলিলাম,
দিদি কথা বলুন।
ঠোটে ফুটুক বুলি,
চোখে জ্বলুক সুতীব্র আগুন।
হাতে নিন কলম।
লেখুন।
দিদিগণ হাতে নিলেন
লিপ লাইনার, আই লাইনার, মাস্কারা।
আরও কতো কী!
মনযোগে ঠোট আঁকিলেন, চোখ আঁকিলেন।
দাদাগণ বিছানায় শুয়ে
মুচকি হাসিলেন।
বলিলাম,
হাতে নিন যন্ত্রপাতির বাক্স।
দিদি হাসিতে হাসিতে বলিলেন,
বাক্স আর লাগিবে কেনো?
ম্যাকাপ বক্স আছে না!
গতমাসেই তো উনি আনিয়া দিলেন।
ইহা নিয়াই তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়া যায়
ড্রেসিং টেবিলে।
বলিলাম
দিদি। শ্রমিক হইয়া উঠুন
নিজের পায়ে দাঁড়ান।
শরীর হোক বলিষ্ট।
উনারা লাইন দিলেন
আধুনিক জিমখানায়।
হপ্তা হপ্তা ওয়ার্ক আউটে
ওজন কমাইলেন।
একে গড়িয়া তুলিলেন
চিকনা কোমড়, ভরাট নিতম্ব।
দুইখানি পেলব উরু।
আমাদের পুরুষগণ মনে মনে খুশি হইলেন।
আরেক প্রস্থ নারীর ভাজগুলি গণনা করিলেন
আরেক প্রস্থ কামনার আগুনে জ্বলিলেন।
দিদিগণের দিকে আরও তীব্র বেগে
আগাইয়া গেলেন।
দিদিগণ বুঝিলেন
ভগিনীগণ জানিলেন।
পুরুষতন্ত্র থাকে থাক।
তাহাতে কী বা যায় আসে।
পুরুষ তো বশে আছে,
এখনও পতঙ্গের মতো
ছুটিয়া আসে।