সারা’র কাছে যাওয়া হয় না অনেকদিন,
সারা’র ডাকে আর সাড়া দিতে পারিনি তবু,
রয়ে গেছে এক রাত্তিরের স্মৃতি,
এক রতির স্মৃতি।
রতির শীর্ষে পুরুষ যখন ভুলে যায় জগৎ,
তখন সারার চোখে চোখ রেখে
বলেছিলাম, ভালোবাসি।
অবিশ্বাস আর তাঁর চাতুরী চোখের পাতা ঝাঁকি দিলে
শুধরে ফেলে নিজেকে, বদলে ফেলি ভাষা।
না, ভালোবাসি সঙ্গম, তোমার সঙ্গম।
যে সঙ্গমের কল্পনা করে করে মরে গেছে, হাজার বছর ধরে
আমাদের পিতারা, পিতামহিরা, অথবা তাদের প্রোপিতারা।
সেই সঙ্গম পূর্ণতা পেলে পরে, প্রেমে পরি সারা’র।
ভগবান তো নই, বড়জোর বিশ্বামিত্র।
সারা’র কাছে যাওয়া হয় না অনেকদিন,
সারা’র ডাকে আর সাড়া দিতে পারিনি তবু,
রয়ে গেছে এক রাত্তিরের স্মৃতি,
এক রতির স্মৃতি।
এক মহাকাব্যিক সঙ্গমের স্মৃতি।
ক্যাটাগরি Uncategorized
-
মহাকাব্যিক সংগম
-
সুস্মিতাকে
মনে পরে সুস্মিতার কথা,
যার নিষ্পাপ মুখের দিকে অপলক
তাকিয়ে থেকে কেটে যাবার কথা ছিল
শতাব্দী থেকে সহস্র বছর।
হঠাৎ
দেখি আজ মুখে তার
জমেছে অন্ধকার।
নেই
সেই নিষ্কলুষ আভা।
ছায়া ফেলেছে সেখানে
জেলাসীর থাবা। -
তোমার বেলকনি
এই শহরে তো আরও
অনেক অনেক বেলকনি আছে।
আছে
বেলকনিতে চুলখোলা সুদৃশ্য রমনীগণ।
বিকেলের কনে দেখা আলোয়,
তারাও তো পথের পানে তাকায়।
কই!
আমি তো একদিনও
তাদের অথবা তাহাদের
বেলকনিতে উকি দেই না!
কেনো
তোমার বেলকনিতেই
চোখ পরে বারবার! -
লাবণ্য
কথা ছিল
লাবণ্যের হাত ধরে
অরণ্য পারি দেবো
একের পর এক।
আর আমি একা একা
আমার সকরুণ চোখের দিকে
তাকিয়ে থাকি স্থবির। -
এলিজা, আমার প্রেমিকা
এলিজার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকি,
ঘষতে থাকি তার ঠোটে ঠোট।
এই শহরে তার কাছে যাওয়া ছাড়া
গতি নেই।
অন্তত আমার মতো
কর্মহীন বেকারের কাছে।
এলিজার হাঁকানো দাম খুবই কম,
মাত্র বিশ ইউরো।
বিশ ইউরোতে নারী,
নারী শরীর।
এলিজার সাথে শর্ত ছিলো,
কোনো ধরনের প্রবিষ্টতা নয়,
শুধুই বাহ্যিক লেহন।
অথবা পরস্পর মন্থন।
তথাপি
এলিজা।
নিজেকে মেলে ধরে
একেবারে দিগম্বর হয়ে।
একে একে তার সকল অন্তর্বাস
খুলে দিয়ে।
আর
আমার সকল কিছু বিচ্ছিন্ন করে।
আমি একের পর এক বিস্মিত হই।
পতিতারা প্রবিষ্ট হয়ে গেলেও
ঠোটে চুমু খায় না।
তথাপি
এলিজা।
আমার ঠোটে চুমু খায়,
আমাকে আলিঙ্গনে আবিষ্ট করে,
যেনো তার শত জনমের সাধনার প্রেমিক।
আমি হারিয়ে যাই,
একবার প্রেমিক,
একবার খদ্দের
হয়ে এলিজার
বুকে আর যোনিতে
হাত বুলাই।
তথাপি
এলিজা।
আমার কাছে রাস্তার বেশ্যা
হয়েই রয়।
যাকে বিশ ইউরোতেই
পাওয়া যায়।
তথাপি
এলিজা।
ফেরার সময় পাঁচ ইউরো বেশি চায়।
শর্ত
পরের প্রতিবারে যেনো দশ ইউরোতে
কাজ সারা যায়।
আমি এলিজার
চোখের দিকে তাকিয়ে থাকি।
এক সমুদ্র হাহাকার নিয়ে
সেখানে শুণ্যতা দেখি।
না।
সেখানে কোনো প্রেম নেই,
কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই।
নেই প্রেম।
নেই প্রেমিক অথবা
পুরুষের আকাঙ্ক্ষা।
আমি ফেরত আসি।
প্রেমিক অথবা পুরুষ
না হবার হতাশা নিয়ে। -
চলে যাচ্ছে ঠিকঠাক
ব্যাপারটা এমন না যে,
কেউ জানতে চেয়েছে,
কেমন আছো।
তবু বলতে ইচ্ছে করে,
ইচ্ছে করে জানাতে তাঁকে,
অনিন্দিতাকে।
তাঁরই শেখানো বুলি,
”চলে যাচ্ছে ঠিকঠাক”।
হ্যাঁ
চলে যাচ্ছে ঠিকঠাক।
বিশ্বাস করো,
বিশ্বাস করো অনিন্দিতা।
চলে যাচ্ছে ঠিকঠাক।
শুধু দুইটা ঘুমের ওষুধ না খেলে
আজকাল আর ঘুম আসে না। -
খাদিজাতুল কোবরা
তথাপি অনিন্দিতার কথাই সত্য হোক,
সত্য হোক তার আবদার।
পৃথুর এক্স-দের তালিকায় যুক্ত হোক
আরেকটি নাম।
যুক্ত হোক খাদিজাতুল কোবরা’র নাম।
হাজারো কিংবা অসংখ্য এক্স তালিকায়
আরেকটি নাম যুক্ত হলে ক্ষতি কী!
না হয়,
নাস্তিকের এক্স-এ আসলো ইসলামি নাম।
কী ক্ষতি হয় তাতে!
বদলে কি যায় ভালোবাসা!
পৃথু তো তাকেও ভালোবাসে।
যে বলেছিল, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরলে তবেই
হবে ভালোবাসা কিংবা প্রেমের ষোলকলা।
এবং মাথায় টুপি এবং হাতে তসবি
নিয়েছিলো যদি ভালোবাসা মিলে!
অজস্র চেষ্টার পরে
কি মানুষ বদলে যায়!
বদলে কি যায় পুরুষ,
অথবা মানুষ,
যে ভালোবাসা খুঁজে মানুষীর হৃদয়ে!
অথবা
বদলে যায় কি তার কথা!
যে বলেছিল,
আপনার এক্স হওয়াও সৌভাগ্য! -
জীবন্ত কবর
কে রেখেছে তার খবর,
যে বয়ে চলেছে শত শতাব্দী ধরে,
এই সুপ্রাচীন পৃথিবীর পরে
নীরবে ঝড়ে পরা পাতার মতো
জীবন্ত কবর!
