পৃথু স্যন্যাল

ক্যাটাগরি Uncategorized

  • অনিন্দিতার কথা

    তথাপি
    সন্ধে হয়ে এলে,
    মনে পরে।
    মনে পরে।
    অনিন্দিতার কথা।
    অনিন্দিতা।
    নিন্দার ভাগ নিতে চাইতো না বলে,
    তার সকল ভালো লাগা,
    ভালোবাসা
    গোপন প্রেম
    গোপন অভিসার,
    সযতনে এড়িয়ে যেতো।
    তথাপি
    সন্ধে হয়ে এলে,
    মনে পরে
    অনিন্দিতার কথা।
    অনিন্দিতা।
    যে আমার প্রেমিকা।
    কখনোই ছিলো না।
    অথবা
    আমিও ছিলাম না
    তার প্রেমিক।
    তথাপি
    সন্ধে হয়ে এলে,
    মনে পরে
    অনিন্দিতার কথা।
    অনিন্দিতা।
    যে আমার সন্তান-সন্ততি, বউ-বাচ্চা
    অথবা ভুত ভবিষ্যৎ।
    সবকিছু নিয়ে চিন্তিত থাকতো।
    চিন্তিত থাকতো
    আমার চেয়েও বেশি।
    অথচ।
    দিনের পর দিন
    অনেক দিন চলে গেছে।
    অনিন্দিতার সাথে কথা হয় না,
    একে অপরকে জানা হয় না।
    জানা হয় না,
    কে কেমন আছে!
    তথাপি
    সন্ধে হয়ে এলে,
    মনে পরে
    অনিন্দিতার কথা।
    আমার না পাওয়া
    ভালোবাসার কথা।

  • পরস্পর

    আমরা
    পরস্পরের কাছে যাই।
    কারণ,
    আমাদের যাবার আর কোনো
    জায়গা নাই।

  • মনুমেন্ট

    সুস্মিতার খুব মনুমেন্ট দেখবার শখ।
    আমাকে খুব তাগাদা দেয় দেখাবার।
    অথচ,
    সে আমার হৃদয়ের দিকে তাকায় না।
    একবার তাকালেই
    দেখতে পেতো জীবন্ত মনুমেন্ট।

  • সুস্মিতা

    এক জন্মে সুস্মিতার সাথে
    দেখা হবে না জানি।
    তবু জানা থাক
    সে আমার।
    কবিতার সেই নায়িকা,
    যাকে দিয়েছিনু
    কোনো উপহার।
    অথবা,
    যার সাথে কথা ছিলো।
    একটা স্বপ্নের ঘরের।

  • অপেক্ষা

    তোমার বিস্তর বিস্তর প্রেম
    শেষ হলে পরে জানিও।
    প্রেমে অপ্রেমে
    তোমার ক্লান্ত শরীর
    একটু শ্রান্তি চাইলে
    জানিও।
    স্টেশনের শেষ ট্রেনটির মতো
    তোমার অপেক্ষাতেই
    দাড়িয়ে থাকবো।

  • জুলিয়ার সাথে রাত

    দু’জন
    দু’জনকে জানার রাতে
    হঠাৎ একবার, এক পলক
    ধরেছিলাম জুলিয়ার হাত।
    ঠিক কখন, কী কারণে তখন
    জুলিয়ার হাত ধরেছিলাম
    মনে নেই।

    শুধু মনে আছে
    গল্পে গল্পে কেটে গেছে আমাদের রাত,
    প্রথম দেখার রাত।

    সাথে খোলা হয়েছে
    এক এক করে দুই দুইটা
    রেড ওয়াইনের ছিপি।

    ঠিক কখন, কী কারণে
    সে রাতে ধরেছিলাম
    জুলিয়ার হাত।
    মনে নেই।

    শুধু মনে আছে,
    জুলিয়ার পরনে ছিল
    শুভ্র উলের ফ্রক।

    মনে আছে
    তাঁর বসার ঘরের মৃদু আলোয়
    সামনে বসে আছে দেবী নয়,
    আবার চপলও নয়, বালিকা।
    শুধুই বালিকা।

    তাঁর মুগ্ধ চোখ, পরেছিল চোখে
    সে রাতে। চেনাজানার রাতে।
    প্রথম দেখার রাতে।

    জানি না কখন। ঠিক কখন
    জানলায় এসে দাঁড়িয়েছে
    ভোরের আলো।
    ঝলকানি নয়, যেনো বলছে
    অনেক তো হলো,
    এবার যার যার ঘরে চলো।

    এরপর,
    দু’জনই দু’জনকে বলেছি
    আবার কোন রাতে
    বসবো এভাবে মুখোমুখী! বলো!

  • নিশাচর

    আমার অনেক আগেই আকাশে
    মিশেছে একাদশী চাঁদ।
    পারাপারহীন খেয়া’পারে
    কেটেছে অনেক বিনিদ্র রাত।

  • ফেরো না

    না।
    ফেরো না।
    ফেরায়ো না।
    থাক।
    শিকেয় তোলা থাক।
    সযতনে এক টুকরো
    বিরহ।
    কী প্রয়োজন আর
    প্রেম অথবা ভালোবাসার
    প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরস্পর
    সেঁকলে আবদ্ধ থেকে
    দায় বয়ে বেড়াবার!
    তারচেয়ে কভু
    খুঁজো নাকো তুমি,
    অথবা আমিও
    খুঁজবো না আর
    আমাদের সন্দেশ পারাপার।
    শুধু জানা থাক।
    আমাদের কেউ ছিলো একদিন
    একদিন ভালোবাসার।

  • মৃত অনুভূতিরা

    অনুভূতিহীন বসে বসে
    ভাবতে ভালো লাগে,
    মানুষেরা ভালোবাসার নামে
    অষ্টপ্রহর কীর্তন করে।
    কীর্তনে কীর্তনে ঝালাপালা কান
    কিছুটা খাড়া হয়,
    হৃদয় কিছুটা লোভী হয়
    ভালোবাসার।
    কিছুটা প্রেমের, কিছুটা কামের।
    মৃত অনুভূতিরা পুনর্জন্মের স্বপ্ন দেখে,
    শশ্মানের চিতা থেকে আড়চোখে তাকায়,
    আরেকবার যদি গোরস্থান থেকে
    ভূতের মতো দাঁড়ানো যায়!
    আরেকবার যদি ভালোবাসা পাওয়া যায়!
    আরেকবার যদি প্রেমিক হওয়া যায়!
    ভূতের অতৃপ্ত আত্মার মতো
    অনুভূতিরা আরেকবার উঠে দাঁড়ায়,
    আরেকবার চষে বেড়ায় জাগতিক পাড়া মহল্লায়।
    হানা দেয় ভালোবাসার আশায়,
    কান পাতে দরোজায়, দরোজায়।
    অনুভূতির অতৃপ্ত আত্মারা
    শুনে ভেতরের ফিসফাস।
    শুনে, মানুষেরা
    ভালোবাসার নামী ভণ্ডামি করে,
    প্রেমের নামে করে প্রতারণা।
    অনুভূতিরা আবার ফিরে যায়,
    চুপচাপ।
    শশ্মানে, চিতায়।
    গোর নেয়, স্বরচিত গুহায়।
    আমার অনুভূতি নাই,
    ভালোবাসা নাই, প্রেম নাই।
    ভালোবাসার যন্ত্রণা নাই,
    নাই প্রেমের অনলে পুড়বার দায়ভার।
    – ২২/১২/২০২০

  • তোমাকে

    এক জীবনে তো
    অনেক কিছুই
    হওয়া যাবে,
    করা যাবে।
    তোমাকে কি
    পাওয়া যাবে!!