অনুভূতিহীন বসে বসে
ভাবতে ভালো লাগে,
মানুষেরা ভালোবাসার নামে
অষ্টপ্রহর কীর্তন করে।
কীর্তনে কীর্তনে ঝালাপালা কান
কিছুটা খাড়া হয়,
হৃদয় কিছুটা লোভী হয়
ভালোবাসার।
কিছুটা প্রেমের, কিছুটা কামের।
মৃত অনুভূতিরা পুনর্জন্মের স্বপ্ন দেখে,
শশ্মানের চিতা থেকে আড়চোখে তাকায়,
আরেকবার যদি গোরস্থান থেকে
ভূতের মতো দাঁড়ানো যায়!
আরেকবার যদি ভালোবাসা পাওয়া যায়!
আরেকবার যদি প্রেমিক হওয়া যায়!
ভূতের অতৃপ্ত আত্মার মতো
অনুভূতিরা আরেকবার উঠে দাঁড়ায়,
আরেকবার চষে বেড়ায় জাগতিক পাড়া মহল্লায়।
হানা দেয় ভালোবাসার আশায়,
কান পাতে দরোজায়, দরোজায়।
অনুভূতির অতৃপ্ত আত্মারা
শুনে ভেতরের ফিসফাস।
শুনে, মানুষেরা
ভালোবাসার নামী ভণ্ডামি করে,
প্রেমের নামে করে প্রতারণা।
অনুভূতিরা আবার ফিরে যায়,
চুপচাপ।
শশ্মানে, চিতায়।
গোর নেয়, স্বরচিত গুহায়।
আমার অনুভূতি নাই,
ভালোবাসা নাই, প্রেম নাই।
ভালোবাসার যন্ত্রণা নাই,
নাই প্রেমের অনলে পুড়বার দায়ভার।
– ২২/১২/২০২০
ক্যাটাগরি Uncategorized
-
মৃত অনুভূতিরা
-
হাতে রাখা হাত
অথবা
সুহানার সে হাত,
চুপি চুপি রাখীর হাতের মতো,
নির্জন পড়ার-ঘরে ধরেছিলো
নিষিদ্ধ গন্ধম প্রেমের টানে।
অথবা
পপি, রাখী, বন্না কিংবা অনন্যা।
একে একে সকল প্রেমিকা কিংবা
প্রেয়সীদের বিষাদে আঁকা চোখে
স্বপ্ন দেখানো চোখ রাখা প্রেমিকেরা
আজ হানা দেয়
স্মৃতির মোহময় বন্দরে।
হাল- ভাঙা জাহাজের মতো।
অথবা
কল্পনার ফানুসে আঁকা অনিন্দিতার হাত।
মনে পরে এখনো, এখনো একদম সত্যি
সত্য বাস্তবতার মতো।
অথবা
মনে পরে সুস্মিতার হাত।
একদিন ধরবো বলে
কবিতায়।
কবিতায় কেটে গেছে
অহর্নিশ বিনিদ্র রাত।
অথবা
চেয়ে থাকি অপলক ছবির দিকে
একদিন সত্যি হবে বলে
তোমার হাতে রাখা হাত। -
অনেক কিছু করার ছিলো…
— পৃথু স্যন্যাল।
অনেক কিছু করার ছিলো,
করার ছিলো হোম ওয়ার্ক,
কয়েকটা ইমেইল।
দুএকটা বেওয়ারিশ কবিতা
লেখার কথা ছিলো।
কথা ছিলো, গল্প লেখার
তোমার আমার গল্প।
অনেক কিছু করার ছিলো,
কথা ছিলো তোমার সাথে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
কথোপকথন।
কিছুই করা হয় না,
অথচ সময় বয়ে যায়।
কিছুই করা হয় না,
সবকিছু থেকে যায়,
একই রকম।
আগের মতোই।
সবকিছু থেকে পালিয়ে বেড়াই,
পালিয়ে বেড়াই প্রেম থেকে,
পরিণয় থেকে।
জীবন থেকে।
করা হয় না কিছুই।
অথচ
অনেক কিছু করার ছিলো। -
মহাকাল
তার সাথে শেষবার কথা হবার পর
কেটে গেছে অনেক অতন্দ্র প্রহর।
নক্ষত্রেরা সরে গেছে অক্ষান্তর
কেটে গেছে কয়েক জন্ম। জন্মান্তর।
যে জন্মে ভালোবাসা ছিলো,
ছিলো অনেক সফল স্বপ্ন,
ছিলো মানুষ-মানুষীর কাছে আসার
কাছে থাকার অনবদ্য সময়।
তার সাথে শেষবার কথা হবার পর
অনেক জন্ম ধরে পিতারা, পিতমহিরা
খুঁজে চলেছে অহর্নিশ
সেই মুখোমুখি বসিবার প্রহর।
কী নিদারুণ!
নিদারুণ বাস্তবতা নিয়ে বয়ে চলে কাল।
মহাকাল।
সেই প্রহর আসে না।
কেটে যায় মহাকাল। -
বয়ে যাক
এরপর বয়ে যাক সহস্র বছর।
বয়ে যাক যমুনা,
হোক পদ্ম-পারাবার।
হারিয়ে যাওয়া মুগ্ধতার ডালি
নিয়ে কেটে যাক আরও সহস্র বছর,
নিষিদ্ধ প্রেম আর বিশুদ্ধ ভালোবাসা
বয়ে যাক পৃথিবী প’র।
বয়ে যাক।
বয়ে যাক সহস্র বছরের
যন্ত্র, যন্ত্রণা-সরোবর।
মরে যাক পিতারা,
পিতামহ আর প্র-পিতারা।
তাদের মুগ্ধতার জগতে বয়ে যাক
বিষাদ কিংবা বীভৎস সেতারা। -
নারী ঘ্রাণ
কাছাকাছি হতে গিয়ে আমার
নাক মুখ চোখ স্পর্শ করেছিলো
শাহ গুফতার নরম বুক।
এতোটুকুনই।
অদ্ভুত! অদ্ভুত! অদ্ভুত স্পর্শ।
এক জীবন পেরিয়ে গেলো তবু,
সেই স্পর্শ, সেই ঘ্রাণ
আর ফিরে আসেনি, ফিরে আসেনি
সেই ডুবে যাবার আকাঙ্ক্ষা।
শাহ গুফতা।
সে কি জানে!
এখনও খুঁজি সেই স্পর্শ,
সেই ঘ্রাণ।
যে প্রথম বুনে দিয়েছিলো,
এ জন্মে নারী প্রাণ, নারী ঘ্রাণ। -
ধর্মান্ধ
বাঙ্গালরে নিয়া আপনি অর্গি পার্টি করবেন,
মানে গণচোদাচোদি অনুষ্ঠান।
বাঙ্গাল উদ্ভোধনের সময় ঘোষণা করবে,
”এখন পরিবেশিত হবে পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াত। -
নিষিদ্ধ শহরে
তুমি
নিষিদ্ধ শহরে থাকো বলেআমি
সিদ্ধ হতেই তোমার হাতেখড়ি
নিয়েছিলাম।গিয়েছিলাম
পলাতক জীবনের নতুন দরজা
জানলা খুলে দিতে,
খুলে দিতে জীবন।তুমি
নিষিদ্ধ শহরে থাকো বলে
তোমার
নামে শপথ নিলাম।শপথ
নিলাম সেই সপ্ত আকাশ
আর
বিশ্ব ভূমণ্ডলের ভণ্ড ঈশ্বরের
নামে।তবু
যদি তুমি এবং তোমার শরীরের
ছোঁয়ায়
জন্ম
জন্মান্তরের পাপ আমাকে গিলে।যে পাপ
জন্মের তরেই হয়েছে লেখা,
হয়েছে
আজন্ম অভিশাপ।তবু
বয়ে চলে যে জীবন,
সে জীবন শুদ্ধ করতেই
তোমার কাছে গিয়েছিলাম।শুধু
আমাদের মাঝখানে ছিল
অবাধ শব্দের আনাগোনা।
আর
হয়ত ছিল কিছু নিষিদ্ধ লেনাদেনা।নভোমণ্ডলের
ভণ্ড ঈশ্বর
দেখছিলো
কি না জানি না।শুধু
জেনেছিলাম,
আমাদের
কোনো ঈশ্বর ছিল না।আর
আমি–আজও
সিদ্ধ নই।শুদ্ধও নই।
শুধু
তোমার নিষিদ্ধ শহরের
দরজার কাছে
দাঁড়িয়ে আছি।
ঠায়।দরজা
খোলে না।
জানলা
খোলে না।মেটে না
আমার শুদ্ধ হবার
আজন্ম বাসনা। -

আরেকটি কবিতার জন্য
এবার দুঃখেরা একে একে আসো,
জানালা খুলে দেখি
তোমাদের একেকটা দুখী মুখ।
.
সুখী মুখগুলো দেখতে দেখতে
ক্লান্ত হয়ে আছে চোখ
হে দুঃখেরা, করো না কালক্ষয়।
.
প্রেমিকার চুম্বনেরা সরে যাও,
চুম্বনে, মন্থনে ত্যক্ত এখন
আজ কিছুটা গালমন্দ প্রয়োজন।
.
অবসাদের ছায়ারা ধীরে ধীরে আসো,
চঞ্চলতা দূরে যাও,
করি বিষণ্ণতার আয়োজন।
.
দুখীরা,
হে চিরদুখীরা,
কতদিন তোমাদের দেখি না!
আজ তোমাদের ভীষণ প্রয়োজন।
.
হে অপ্রাপ্তিরা,
তোমরা কোথায়?
প্রাপ্তির পাত্র পূর্ণ হয়ে গেছে সে কবেই,
অপ্রাপ্তির পাত্রটা পূর্ণ করার আজ বড় প্রয়োজন।
.
ভালবাসারা আজ চলে যাও,
হৃদয় বড্ড বেশি উচ্ছসিত আজকাল,
এবার কিছুটা স্থবিরতা আসুক।
.
হে বন্ধুরা, ছুড়ি নিয়ে আসো,
পিঠে বসাও,
কতদিন বিশ্বাসঘাতক দেখি না!
.
প্রেমিকারা, হাত ছাড়ো,
আর ধরে রাখতে পারছি না,
এখন কিছুটা স্বাধীনতা প্রয়োজন।
বউকে বলি,
অনেক তো আদর সোহাগ খুনসুটি হলো,
এবার ঝগড়ায় পা বাড়াও।
.
এক জীবনের সকল দুঃখেরা,
হাতজোড় করে বলি তোমাদের,
অন্তত আরেকটি কবিতার জন্য,
আরেকটি বার সামনে এসে দাঁড়াও।