পৃথু স্যন্যাল

ক্যাটাগরি Uncategorized

  • কলঙ্ক

    দেখা হয়নি
    তোমার আমার।
    হবে না কোনো দিন।
    তথাপি
    বয়ে চলেছি
    কলঙ্ক প্রতিদিন।

  • রাখীর হাত (২)

    অথচ রাখীর হাত নয়,
    অদ্ভুত চোখ। তার ভেংচি কাটা
    পাড়াগাঁর আধুনিকা মুখ,
    মুখের ভাষণ।
    মনে পড়ে আজ তবু নিভৃতে ভীষণ।
    ভীষণ মনে পড়ে আজ
    আমার সকল তাচ্ছুল্যে ভরা বাউন্ডুলে হাসি,
    আর তার বিরক্তি বতসনা।
    সকল বিরক্তি ঝেড়ে দিয়ে, তার
    মোহময় আঞ্চলিকতায় ভরা ভাষণ
    “আইস্যা দিলাম, বাইস্যা গেলো”।
    অথচ রাখীর হাত নয়,
    অদ্ভুত চোখ। তার ভেংচি কাটা
    আর সদ্য ভেংচি শেখা বালিকার ঠোট।
    ঠোটের কাঁপন।
    মনে পড়ে আজ তবু নিভৃতে ভীষণ।
    ভীষণ মনে পড়ে
    কেন তার ঠোটে হয়নি রাখা ঠোট!
    কেন তাহার চোখে হয়নি রাখা চোখ।
    অথবা হাতের প’রে হাত।
    অথবা কেন কাটেনি তার সাথে
    রাতের পড়ে রাত।

  • পবিত্র মুখ

    তাঁর পবিত্র মুখ
    কোনো এক রূপসী নদীর ধারে, এক জন্মে
    দেখা হয়েছিলো তার সাথে
    একলা শালিক অথবা ঘুরে ঘুরে যে নিজের সাথে কথা কয়।
    ডোবাজলে যে ঘ্যাঙর ব্যাক ডাকে তার ব্যাঙানিরে।
    তেমন করে দেখা হয়েছিলো তার সাথে।
    দেখা হয়েছিলো কোনো এক শিমুলের তলে,
    তুমুল কোয়াশার পাখনায় ভর করে অজানা এক ভোরের শিশিরে।
    যেখানে হঠাৎ দেখা দেয়, হাওড় পারে উদলা শিশু
    হিজলের তলে নিয়ে তার পবিত্র মুখ, সরল হাসিখানি ধরে।
    তার সাথে দেখা হয়েছিলো
    সেই অচিন পাড়াগাঁর সন্ধ্যা নামা মাঠের কোনে
    কিশোরীর ডাকে ঘরে ফেরা প্যাঁক প্যাঁক হাঁসেদের সাথে।
    তুমুল গোলাপি আভায় ঢেকে যাওয়া
    লখা কিংবা রঙিয়ার চরের ছাদের মতো আকাশের নিচে
    ঝিড়িঝিড়ি শব্দে যখন কথা কয় বাঁশের পাতারা বাতাসের সাথে।
    তার সাথে দেখা হয়ছিলো কোনো এক বর্ষার সন্ধ্যায
    কদমের ফুলে ঢেকে যাওয়া পথের পরে।
    আর হাজার বছর ধরে তার পবিত্র মুখ
    জেগে আছে এই মহা-পৃথিবীর পরে।

  • মহাকাব্যিক সংগম

    সারা’র কাছে যাওয়া হয় না অনেকদিন,
    সারা’র ডাকে আর সাড়া দিতে পারিনি তবু,
    রয়ে গেছে এক রাত্তিরের স্মৃতি,
    এক রতির স্মৃতি।
    রতির শীর্ষে পুরুষ যখন ভুলে যায় জগৎ,
    তখন সারার চোখে চোখ রেখে
    বলেছিলাম, ভালোবাসি।
    অবিশ্বাস আর তাঁর চাতুরী চোখের পাতা ঝাঁকি দিলে
    শুধরে ফেলে নিজেকে, বদলে ফেলি ভাষা।
    না, ভালোবাসি সঙ্গম, তোমার সঙ্গম।
    যে সঙ্গমের কল্পনা করে করে মরে গেছে, হাজার বছর ধরে
    আমাদের পিতারা, পিতামহিরা, অথবা তাদের প্রোপিতারা।
    সেই সঙ্গম পূর্ণতা পেলে পরে, প্রেমে পরি সারা’র।
    ভগবান তো নই, বড়জোর বিশ্বামিত্র।
    সারা’র কাছে যাওয়া হয় না অনেকদিন,
    সারা’র ডাকে আর সাড়া দিতে পারিনি তবু,
    রয়ে গেছে এক রাত্তিরের স্মৃতি,
    এক রতির স্মৃতি।
    এক মহাকাব্যিক সঙ্গমের স্মৃতি।

  • সুস্মিতাকে

    মনে পরে সুস্মিতার কথা,
    যার নিষ্পাপ মুখের দিকে অপলক
    তাকিয়ে থেকে কেটে যাবার কথা ছিল
    শতাব্দী থেকে সহস্র বছর।
    হঠাৎ
    দেখি আজ মুখে তার
    জমেছে অন্ধকার।
    নেই
    সেই নিষ্কলুষ আভা।
    ছায়া ফেলেছে সেখানে
    জেলাসীর থাবা।